নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ | ১৯ মে, ২০২৬
নওগাঁর 'ঢাকা বাসস্ট্যান্ড' এলাকায় একতা পরিবহনের কাউন্টারে ঢুকে প্রকাশ্য দিবসালোকে এক পরিবহন শ্রমিককে অন্যায়ভাবে মারধর করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে নওগাঁ-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে দূরপাল্লার বাস আড়াআড়ি করে রেখে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা। অবরোধের কারণে ঢাকার সাথে নওগাঁর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে, ঘটনার আগের দিনের একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে।
সিসিটিভি ফুটেজে হামলার নৃশংসতা ফাঁস হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুরুতে একতা পরিবহনের কাউন্টারের সামনের পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। কাউন্টারে কর্মরত কয়েকজন চেয়ারে বসার ছিলেন। আচমকাই নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল যুবক কাউন্টারে এসে কর্মীদের সাথে উগ্র আচরণ ও কথা-কাটাকাটি শুরু করে।
মুহূর্তের মধ্যে সেই তর্কাতর্কি রূপ নেয় সহিংসতায়। ফুটেজে দেখা যায়, শহিদুল ইসলাম সোহাগের সাথে আসা রিংকু, আব্দুর রউফ এবং আলী হাসান অন্তরসহ একদল ক্যাডার বাহিনী আচমকা একতা পরিবহনের কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে একজনকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হতে থাকে। এরপর মারামারি ছড়িয়ে পড়লে কাউন্টারের ভেতর ও বাইরের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

শ্রমিক ও স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ घटनाর পর প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে আসেন শত শত পরিবহন শ্রমিক। মহাসড়কের মাঝখানে একতা পরিবহনের বড় বড় বাস আড়াআড়ি করে রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়।
মেগাফোন হাতে বিক্ষোভরত এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের কাউন্টারে ঢুকে আমাদের মানুষকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। অথচ ঘটনার এত সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, অপরাধীদের গ্রেপ্তারও করা হয়নি।"
আন্দোলনকারীদের পাশে থাকা আরেকজন বক্তা প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "বাস কাউন্টারে ২০০ টাকা ভাড়া বেশি নিলে পুলিশ সাথে সাথে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করে। অথচ আজকে আমাদের একজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবসালোকে এভাবে মারধর করা হলো, কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো খবর নেই! বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।"
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধের আলটিমেটাম বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকার সাথে নওগাঁর এই মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকবে এবং কোনো গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মহাসড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।